সংক্ষেপে: ঢাকার ইন্দোনেশিয়া দূতাবাসে ভিসার আবেদনে কাগজের তালিকায় সরাসরি লেখা আছে "Travel insurance with QR code" — অর্থাৎ এমন পলিসি, যার সার্টিফিকেটের QR কোড স্ক্যান করে আসল কিনা দেখা যায়। ভিসা দেওয়া হয় শুধু single-entry, সর্বোচ্চ ৬০ দিনের; তাই পলিসি নিন পুরো ভ্রমণ জুড়ে। ট্যুরিস্ট ভিসার ফি ৮,০০০ টাকা, ব্যবসার ১৬,০০০ টাকা, প্রসেস হতে লাগে ১০–১৫ কর্মদিবস।
বালি, জাকার্তা, লম্বক — ইন্দোনেশিয়া এখন বাংলাদেশিদের প্রিয় ছুটির জায়গাগুলোর একটা। কিন্তু ভিসার ফাইল গোছাতে গিয়ে অনেকেই একটা লাইনে আটকে যান: "Travel insurance with QR code"। কোন কোম্পানির? QR কোড মানে কী? এজেন্সি যেটা "প্যাকেজে" দিচ্ছে সেটা চলবে তো?
এই লেখায় দূতাবাসের নিজের তথ্য ধরে পুরোটা গুছিয়ে দিলাম — ইন্স্যুরেন্স, কাগজপত্র, ফি আর যে ভুলগুলোতে আবেদন বাতিল হয়।
💡 তাড়া থাকলে এখনই কোটেশন নিয়ে দেখুন কত পড়বে — ফর্মে "Business & Holiday" আর দেশ "Indonesia" বেছে নিন।
ইন্দোনেশিয়ার ভিসায় কি ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স লাগে?
হ্যাঁ। ঢাকার ইন্দোনেশিয়া দূতাবাস (KBRI Dhaka) ভিসার আবেদন নেয় তাদের নিজস্ব অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট পোর্টালের মাধ্যমে (indonesiavisa-dhaka.org)। সেখানে "Required Documents" তালিকায় কনফার্মড টিকিট আর হোটেল বুকিংয়ের সাথেই আছে QR কোডসহ ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স।
দূতাবাস কভারেজের কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক বলেনি। তাই এমন পলিসি নিন যাতে অন্তত এগুলো থাকে:
- জরুরি চিকিৎসা আর হাসপাতালে ভর্তির খরচ — ইন্দোনেশিয়ায় বিদেশিদের প্রাইভেট হাসপাতালে খরচ অনেক।
- জরুরি অবস্থায় দেশে ফেরত পাঠানো (evacuation / repatriation)।
- পুরো ভ্রমণের তারিখ — টিকিটের যাওয়া থেকে ফেরা পর্যন্ত।
- QR কোড — সার্টিফিকেটে, যা স্ক্যান করলে পলিসির তথ্য দেখা যায়।
QR কোড কেন এত জরুরি
দূতাবাসের তালিকায় "QR code" কথাটা আলাদা করে লেখার কারণ আছে। ভুয়া বা এডিট করা ইন্স্যুরেন্স সার্টিফিকেট ভিসা আবেদনে পুরনো সমস্যা। QR কোড থাকলে অফিসার এক স্ক্যানেই দেখতে পারেন পলিসিটা সত্যিই আছে কিনা, কার নামে, কত দিনের।
তাই এজেন্সি বা কেউ "ইন্স্যুরেন্সসহ প্যাকেজ" দিলে কেনার আগে তিনটা জিনিস মিলিয়ে নিন: কোন বীমা কোম্পানির পলিসি, সার্টিফিকেটে QR কোড আছে কিনা, আর স্ক্যান করলে আপনার নাম-তারিখ আসে কিনা।
কীভাবে আবেদন করবেন — ধাপে ধাপে
- অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট — দূতাবাসের পোর্টাল indonesiavisa-dhaka.org-এ ইমেইল OTP দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে তারিখ ও সময় বেছে নিন। ফি পোর্টালেই অনলাইনে দিতে হয়।
- কাগজ আপলোড — নিচের তালিকার কাগজগুলো পোর্টালে দিন।
- দূতাবাসে যাওয়া — নির্ধারিত দিনে গুলশান-২-এর দূতাবাসে অ্যাপয়েন্টমেন্টের QR কোড আর আসল কাগজ নিয়ে যান। জমা নেওয়া হয় রবি থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ৯:৩০ থেকে দুপুর ১২:৩০।
- পাসপোর্ট সংগ্রহ — প্রসেস শেষে বিকেল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে।
ℹ️ ইন্দোনেশিয়ার সরকারি eVisa সাইটে (evisa.imigrasi.go.id) বাংলাদেশি পাসপোর্ট দিয়ে ট্যুরিজম ভিসা বাছলে লেখা আসে — আবেদন করতে হবে ইন্দোনেশিয়ার কোনো guarantor বা স্পন্সরের মাধ্যমে। তাই বেশিরভাগ বাংলাদেশি ঢাকার দূতাবাসেই আবেদন করেন।
কাগজপত্রের তালিকা
দূতাবাসের পোর্টালে যা চাওয়া হয়েছে:
- পাসপোর্ট — আসল + কপি, কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ, ২টি খালি পাতা।
- গত ৫ বছরের ভ্রমণের ইতিহাস — এক পাতায় তালিকা বা টেবিল।
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট — কমপক্ষে $২,০০০ বা ২ লাখ টাকা, ৩ মাসের, সাথে আসল ব্যাংক চেক।
- ২টি পাসপোর্ট সাইজ ছবি — সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড।
- কভার লেটার — কেন যাচ্ছেন তা পরিষ্কার করে।
- কনফার্মড টিকিট আর কনফার্মড হোটেল বুকিং (ইমেইল কনফার্মেশনসহ)।
- QR কোডসহ ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স।
- অফিসের NOC বা চিঠি আর অফিস আইডি কার্ডের কপি; ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স + TIN।
- স্বামী/স্ত্রী সাথে গেলে বিয়ের সনদ; ইন্দোনেশিয়া থেকে আমন্ত্রণ থাকলে আমন্ত্রণপত্র আর স্পন্সরের KTP (জাতীয় পরিচয়পত্র)-এর কপি।
তালিকা মাঝেমধ্যে বদলায়। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার আগে পোর্টালের সর্বশেষটা মিলিয়ে নিন।
ফি, সময় আর দূতাবাসের নিয়ম
| বিষয় | দূতাবাসের তথ্য |
|---|---|
| ট্যুরিস্ট ভিসা (ভ্রমণ, পরিবার, চিকিৎসা, সম্মেলন) | ৮,০০০ টাকা |
| নন-ট্যুরিস্ট ভিসা (ব্যবসা, কেনাকাটা, আমদানি-রপ্তানি) | ১৬,০০০ টাকা |
| ভিসার ধরন | শুধু single-entry, সর্বোচ্চ ৬০ দিন থাকা |
| প্রসেসিং সময় | ১০–১৫ কর্মদিবস |
| দিনে সর্বোচ্চ আবেদন | ৬০টি |
| ফি ফেরত | ফেরত দেওয়া হয় না |
আরও দুটো নিয়ম, যেগুলো অনেকে জানেন না:
- এজেন্সি জমা দিতে পারবে না। দূতাবাস তৃতীয় পক্ষের এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন নেয় না। একান্ত প্রয়োজনে একই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি জমা দিতে পারেন — দূতাবাসের আগাম অনুমতি নিয়ে।
- পোশাক। দূতাবাসে ঢুকতে ফর্মাল বা সেমি-ফর্মাল পোশাক আর জুতা লাগবে। টি-শার্ট, হাফপ্যান্ট বা স্যান্ডেল পরে গেলে ঢুকতে দেওয়া হয় না।
নতুন পাসপোর্ট হলে?
দূতাবাস ট্যুরিস্ট ভিসায় নতুন পাসপোর্ট (fresh passport) গ্রহণ করে না — মানে যে পাসপোর্টে আগে কোনো ভ্রমণের সিল নেই। ব্যতিক্রম হতে পারে: পরিবারের সদস্য যাদের আগের ভ্রমণের সিল আছে, একই প্রতিষ্ঠান থেকে দল হিসেবে আবেদন, আর নন-ট্যুরিস্ট ভিসা। প্রথমবার বিদেশ যাচ্ছেন হলে আগে আশপাশের কোনো দেশ ঘুরে আসার কথা ভাবতে পারেন।
কত দিনের ইন্স্যুরেন্স নেবেন
টিকিটের যাওয়ার তারিখ থেকে ফেরার তারিখ পর্যন্ত — পুরো সময়। ভিসায় সর্বোচ্চ ৬০ দিন থাকা যায়, তাই এর বেশি লাগবে না। ফ্লাইট দেরি হলে বা এক-দুই দিন বেশি থাকলে যেন সমস্যা না হয়, তাই এক-দুই দিন বাড়িয়ে নেওয়া ভালো।
দূতাবাস কনফার্মড টিকিট চায় জমা দেওয়ার ১৫–৩০ কর্মদিবস পরের তারিখের। তাই আগে টিকিটের তারিখ ঠিক করুন, তারপর সেই তারিখ ধরেই ইন্স্যুরেন্স কিনুন — পলিসি আর টিকিটের তারিখ না মিললে ফাইলে প্রশ্ন ওঠে।
MIIPLC-র কোটেশন ফর্মে "Business & Holiday (Travelling)" আর দেশ "Indonesia" বাছলে প্ল্যান নিজেই ঠিক হয়ে যায়; মেয়াদ ১৪, ২১, ২৮, ৩৫, ৪৭ বা ৬০ দিন বেছে নেওয়া যায়।
খরচ কত পড়বে
ইন্দোনেশিয়া Schengen-এর বাইরের দেশ, তাই খরচ কম পড়ে। ৪০ বছর পর্যন্ত বয়সের একজনের ১৪ দিনের পলিসি শুরু হয় ১,৩৫০ টাকা থেকে (ভ্যাটসহ)। দাম বয়স আর কত দিনের পলিসি — এই দুটোর উপর বদলায়; বয়স ৪০-এর বেশি হলে বা মেয়াদ লম্বা হলে বাড়ে।
💰 আপনার আসল দাম দেখতে কোটেশন টুলে বয়স, দেশ (Indonesia) আর দিন দিন — সাথে সাথে সংখ্যা চলে আসবে।
যে ভুলগুলোতে ফাইল আটকে যায়
১. QR ছাড়া বা যাচাই করা যায় না এমন সার্টিফিকেট। দূতাবাস QR কোড চেয়েছে। শুধু একটা PDF বা ছাপানো কাগজ, যা কোথাও মিলিয়ে দেখা যায় না, ঝুঁকিপূর্ণ।
২. তারিখ না মেলা। টিকিট, হোটেল আর ইন্স্যুরেন্স — তিনটার তারিখ একই ভ্রমণের সাথে মিলতে হবে। দূতাবাসের পোর্টাল নিজেই বলছে: ছোট একটা তারিখের ভুলেও আবেদন বাতিল হতে পারে, আর দ্বিতীয় সুযোগ থাকে না।
৩. দুর্বল ব্যাংক স্টেটমেন্ট। কমপক্ষে ২ লাখ টাকা বা $২,০০০, তিন মাসের — হঠাৎ বড় অঙ্ক জমা থাকলে তার ব্যাখ্যা রাখুন।
৪. শেষ মুহূর্তে আবেদন। প্রসেস ১০–১৫ কর্মদিবস, আর দূতাবাস নিজেই ২ মাস আগে আবেদন করতে বলে। ফি ফেরত হয় না, তাই তাড়াহুড়ায় ভুল করবেন না।
MIIPLC-র পলিসি কেন
- প্রতিটা সার্টিফিকেটে QR কোড — দূতাবাস বা যে কেউ স্ক্যান করে পলিসি আসল কিনা দেখতে পারে।
- ইন্দোনেশিয়াসহ Schengen-এর বাইরের দেশে মেডিকেল কভারেজ USD 50,000 পর্যন্ত — কোটেশনেই লেখা থাকে।
- IDRA-নিয়ন্ত্রিত, শরিয়াহভিত্তিক সাধারণ বীমা কোম্পানি, ১৯৯৬ সাল থেকে।
- পুরোটাই অনলাইনে; bKash, নগদ, কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে পেমেন্ট, সার্টিফিকেট সাধারণত কয়েক মিনিটে।
সব প্ল্যান আর কভারেজ একসাথে দেখতে MIIPLC ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স পেজ দেখুন। পাশের দেশ মালয়েশিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে পড়ুন আমাদের মালয়েশিয়া ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স গাইড।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
ইন্দোনেশিয়ার ভিসায় কি ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ। ঢাকার ইন্দোনেশিয়া দূতাবাসের ভিসা পোর্টালে কাগজপত্রের তালিকায় "Travel insurance with QR code" আছে।
কত টাকার কভারেজ লাগবে?
দূতাবাস কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক বলেনি। জরুরি চিকিৎসা, হাসপাতালে ভর্তি আর ইভাকুয়েশন কভার করে এমন পলিসি নিন, পুরো ভ্রমণের তারিখ জুড়ে। MIIPLC-র পলিসিতে ইন্দোনেশিয়ার জন্য মেডিকেল কভারেজ USD 50,000 পর্যন্ত।
QR কোড ছাড়া সার্টিফিকেট চলবে?
দূতাবাস QR কোডসহ ইন্স্যুরেন্স চেয়েছে, তাই QR কোড আছে এমন পলিসিই নিন। MIIPLC-র প্রতিটা সার্টিফিকেটে QR কোড থাকে।
ইন্দোনেশিয়ার ভিসা ফি কত?
ট্যুরিস্ট ভিসা ৮,০০০ টাকা আর ব্যবসা বা অন্যান্য নন-ট্যুরিস্ট ভিসা ১৬,০০০ টাকা। ফি ফেরতযোগ্য নয়।
ভিসা পেতে কত দিন লাগে?
সব কাগজ জমা দেওয়ার পর ১০–১৫ কর্মদিবস। দূতাবাস ২ মাস আগে আবেদন করতে বলে।
কত দিন থাকা যায়?
দূতাবাস শুধু single-entry ভিসা দেয়, সর্বোচ্চ ৬০ দিন থাকার জন্য।
এজেন্সির মাধ্যমে জমা দেওয়া যাবে?
না। দূতাবাস তৃতীয় পক্ষের এজেন্সির জমা নেয় না। বিশেষ কারণে একই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি জমা দিতে পারেন, দূতাবাসের আগাম অনুমতি নিয়ে।
নতুন পাসপোর্ট দিয়ে ট্যুরিস্ট ভিসা হবে?
সাধারণত না — দূতাবাস নতুন পাসপোর্টে ট্যুরিস্ট ভিসা নেয় না। আগের ভ্রমণের সিল আছে এমন পরিবারের সদস্য বা একই প্রতিষ্ঠান থেকে দলগত আবেদনে ব্যতিক্রম হতে পারে।
ইন্স্যুরেন্সের খরচ কত?
৪০ বছর পর্যন্ত বয়সে ১৪ দিনের পলিসি শুরু ১,৩৫০ টাকা থেকে (ভ্যাটসহ)। বয়স আর দিনের সংখ্যা অনুযায়ী বদলায় — কোটেশন টুলে এক মিনিটে নিজের দাম দেখুন।
সার্টিফিকেট পেতে কত সময় লাগে?
অনলাইনে পেমেন্টের পর সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যে।
শেষ কথা
ইন্দোনেশিয়ার ভিসায় ইন্স্যুরেন্স ছোট একটা কাগজ, কিন্তু দূতাবাস এটা আলাদা করে খেয়াল করে — QR কোড, সঠিক নাম, আর টিকিটের সাথে মেলা তারিখ। ফি ফেরত হয় না, তাই প্রথমবারেই ঠিকঠাক জমা দিন।
টিকিটের তারিখ ঠিক হলেই ইন্স্যুরেন্সটা সেরে ফেলুন।
দ্রষ্টব্য: এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য। তথ্য নেওয়া হয়েছে ঢাকার ইন্দোনেশিয়া দূতাবাসের ওয়েবসাইট (kemlu.go.id/dhaka), দূতাবাসের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পোর্টাল (indonesiavisa-dhaka.org) আর ইন্দোনেশিয়া ইমিগ্রেশনের eVisa সাইট (evisa.imigrasi.go.id) থেকে, ৩ অক্টোবর ২০২৬-এ যাচাই করা। ভিসার নিয়ম ও ফি বদলাতে পারে — আবেদনের আগে দূতাবাসের সর্বশেষ চেকলিস্ট এবং পলিসির নির্দিষ্ট শর্ত, সীমা ও ব্যতিক্রম যাচাই করে নিন।